ভারতে চীনের সস্তা ইস্পাত আমদানি অব্যাহত বাড়ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরও দেশটি ধাতবপণ্যটির নিট আমদানিকারক হিসেবে শেষ করতে পারে। বাড়তি আমদানির কারণে অভ্যন্তরীণ কোম্পানিগুলোর লোকসান বাড়ছে। তাই লোকসান এড়াতে ইস্পাত আমদানিতে সুরক্ষা শুল্ক আরোপ করতে চায় দেশটির বাণিজ্য দপ্তর। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।
ইস্পাত মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিল-নভেম্বর পর্যন্ত ভারতের আমদানির পরিমাণ ছিল ৬৫ লাখ টন, যা গত বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি। ভারতের ইস্পাত মিলগুলোর প্রধান বাজার ইউরোপের দেশ। এ দেশগুলোয় অর্থনৈতিক মন্দার কারণে আমদানি কমছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে চীনা পণ্যের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা বাড়ছে। তাই এপ্রিল-নভেম্বর পর্যন্ত ভারতের ইস্পাত বাণিজ্য ঘাটতি ২৬ হাজার ৪৬৮ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে।
উল্লেখ্য, কোনো পণ্যের রফতানির পরিমাণ আমদানির তুলনায় বেড়ে গেলে বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়।
চীন কখনো কখনো উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দামে ইস্পাত রফতানি করে। ভারতের একটি স্টিল মিলের শীর্ষ কর্মকর্তারা সম্প্রতি বলেছেন, ‘অতিরিক্ত মজুদ থাকায় বিশ্বের অন্য দেশগুলোয় চীন অনেক কম দামে ইস্পাত রফতানি করছে। কম দামের কারণে মোট আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ইস্পাত জাতীয় পণ্য চীন থেকে আমদানি করে ভারত।’
২০২৪ সালের জানুয়ারি-অক্টোবর পর্যন্ত চীন থেকে ভারতের ইস্পাত আমদানি প্রায় ৯৮ শতাংশ বেড়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, চীনে অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও নির্মাণ খাতের কার্যক্রমে পতনের কারণে ২০২৩ সালে ইস্পাত ব্যবহার ২৪ শতাংশে নেমে এসেছে (৪০ শতাংশ থেকে)। ২০২৪ সালে এটি আরো ১০ শতাংশ নিম্নমুখী হয়েছে।